ব্রণ দূর করার উপায়।

 ব্রণ দূর করার উপায়

মুখটা যেন যেন দিন দিন ব্রণের দাগে শেষ হয়ে যাচ্ছে কারো সামনেও যেতে পারছি না লজ্জায় কি করব আমি কিভাবে এই ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাব?


আপনিও হয়তো এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন ভয় পাওয়ার কিছু নেই আজকে আমরা জানব ব্রণ কি?  কেন হয়? ব্রণের প্রকারভেদ।  কিভাবে ব্রন সমস্যার সমাধান করব।

ব্রণ কী?

======

ব্রণ হচ্ছে আমাদের ত্বকের একটা রোগ যা সাধারণত ১৩-১৯ বয়সী ছেলেমেয়েদের এই সমস্যা বেশি দেখা দেয় ত্বকের মধ্যে লালচে সাদা হয়ে ফুলে ওঠে।

ব্রণ কেন হয়?

==========

বিভিন্ন কারণে ব্রণ হতে পারে যেমন হজমের সমস্যা অ্যালকোহল বয়ঃসন্ধি কালের হরমোনের প্রভাবে হয় বংশগত কারনেও হতে পারে। প্রোপাইন ব্যাকটেরিয়াম একনিস নামের জীবাণুর এর জন্য দায়ী হতে পারে।

ত্বকের সেবাসিয়াম গ্রন্থি থেকে সেবাম নামে একধরনের তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়।এই গ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সেবাম নিঃসরণ বাধাগ্রস্থ হয় এবং তা ত্বকের ভেতরে জমে ফুলে উঠে যা ব্রন নামে পরিচিত। প্রায়ই ব্রণের চারপাশে প্রদাহ হয় এবং লাল হয়ে ফুল উঠে জীবাণু সংক্রমণ হলে এতে পুজ হয় যার ফলে সংক্রামন সেরে গেলেও মুখে দাগ থেকে যায়। বিভিন্ন কারনে ব্রন হতে পারে তবে চিন্তার কিছু নেই সমস্যা যেহেতু আছে সমাধানও আছে। 

ব্রণের প্রকারভেদ 

=============

★ট্রপিক্যাল একনি- অতিরিক্ত গরম আদ্রতায় পিঠে বা উরুতে ব্রণ হতে পারে যা ট্রপিক্যাল একনি। 

-★একনি কসমেটিকার- আমরা যেসব কসমেটিক ইউজ করি যেমিন ক্রিম ফেসওয়াশ  ওয়েল আর বিভিন্ন পণ্য ব্যবহারের ফলে হতে পারে।

★ একনি ডিটারজেনিকস- মুখে বারবার সাবান দিয়ে ধোয়ার ফলে হতে পারে। 

★স্টেয়ারেড একনি- স্টেয়ারেড যুক্ত ঔষধ সেবনে হতে পারে। 

ব্রণ হলে করণীয় 

============

★ দিনে ২-৩ বার ভালো একটা ফেইছওয়াশ ইউজ করুন বাহির থেকে আসা মাত্রই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

★ খালি হাতে বার বার মুখে হাত দিবেন না এতে করে মুখে জীবাণুর সংক্রমণ হত সহজেই। 

★ মাথা খুশকি মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন।

★ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং আলাদা তোয়ালে ব্যবহার করুন।

★ রাত জাগা যাবেনা প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। আপনার স্কিনের কোয়ালিটি কেমন হবে তা ৭০% নির্ভর করে ঘুমের উপর তাই রাত না জেগে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমান  ঘুমের অভ্যাস করুন।

★ মানসিক চাপমুক্ত থাকুন। কারন মানসিক চাপ ব্রনের সৃষ্টি করে। 

★প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন এবং খাবারের মধ্যে শাকসবজি ফলমূল রাখুন। 

★ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে হবে প্রোটিন ও ভিটামিন যুক্ত খাবার খেতে হবে।

★ হস্তমৈথুনের অভ্যাস থাকলে তা ছেড়ে দিতে হবে৷ আপনি যদি হস্তমৈথুন করেন আর পৃথীবির সব  চিকিৎসা করে ফেলেন তাও কোনো পরিবর্তন হবে না তাই হস্তমৈথুনের অভ্যাস থাকলে তা আজই পরিহার করুন।

★তেলযুক্ত খাবার বা ফাস্টফুড এডিয়ে চলুন

★ রোদ এডিয়ে চলুন বেশি বাহিরে যাওয়ার দরকার হলে ছাতা বা সানব্লক ক্রিম লাগিয়ে বের হন।

★ব্রণে হাত লাগাবেন না বা ফুটা করবেন না এতে করে ব্রণ ফেটে গিয়ে আবারও নতুন জায়গায় ব্রণের সৃষ্টি করে।

ব্রণ দূর করার কার্যকরী আয়ুর্বেদিক উপায়

=============================

১ঃ-টিপস ব্যবহার করে ৩ দিনেই আপনার ত্বকের উন্নতি লক্ষ করতে পারবেন। 

এটার জন্য কিছু পরিমান হলুদের গুড়ো আর দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করুন। খেয়াল রাখবেন দুধ হলুদ গুড়ো  দেন সম্পুর্ন অরিজিনাল হয়। তারপর পেষ্ট টি পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট রেখে দিন লাগিয়ে। 

৩০ মিনিট রাখার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে  ফেলুন। এভাবে প্রতিদিন ৩ বার ব্যবহার করুন সকালে ঘুম থেকে উঠে একবার গোসলের পুর্বে  একবার আর রাতে ঘুমানোর পুর্ব একবার। 

এটা করলে আপনি ৩ দিনেই পরিবর্তন লক্ষ করতে পারবেন

২ঃ- একটি কলা নিন তারপর সেটার সাথে কিছু মধু মিশিয়ে নিন।  তারপর আপনার পুরো মুখে লাগিয়ে নিন শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন তারপর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  কলার মধ্যে থাকে ভিটামিন ই, ও সি এবং পটাশিয়াম যা আপনার স্কিনকে গ্লো আর সফট করে। আপনি চাইলে প্রতিদিন এটা ইউজ করতে পারেন। কিছুদিনের মধ্যেই স্কিনের পরিবর্তন লক্ষ করতে পারবেন।

৩ঃ মুলতানি মাটির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবি উপকারি। এটার জন্য কিছুটা মুলতানি মাটি নিয়ে তার সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট বানান তারপর সেটা মুখে লাগিয়ে রাখুন শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষ করুন তারপর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

 উপরের পদ্ধতিগুলো সম্পুর্ন প্রাকৃতিক কোনো পার্শ প্রতিক্রিয়া নেই সম্পুর্ন নিরাপদ। আপনি চাইলে খুব কম খরচে ঘরে বসে করতে পারেন তাই চেষ্টা করতে পারেন যদি এতেও আপনার কাজ না হয় তাহলে ভালো একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কসমেটিক পণ্য ব্যবহার কতটা ঠিক?

=========================

আমাদের ব্রণ হলে আমরা বিভিন্ন রঅকক কসমেটিক ব্যবহার করি যেমন ক্রিম,  সিরাম জেল আরও কতো কি আর এইগুলা আমাদের মুখের অবস্থা আরও বেশি খারাপ করে দেয় তাই ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে তা ভালোভাবে জেনে বুজে যাচাই করে তারপর ব্যবহার করুন তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কসমেটিক  কোনোকিছু ইউজ না করাই ভালো। 

একটা বয়সে ব্রন হবেই তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই ২৫ বছরের পর ব্রণ এমনিতেই চলে যায়।


এখন প্রশ্ন আসতে পারে ব্রন থাকা অবস্থায় কি ব্যবহার করবো?  

=============================

এমন কিছু জিনিস আছে যেগুলা সম্পুর্ন প্রাকৃতিক যার ব্যবহারে আপনার কোনো ক্ষতি হবেনা। নিচে কিছু জিনিসের নাম দেওয়া হলো 

★নিম পাতার পেস্ট এটার ব্যবহারে আপনার মুখের জীবাণু প্রতিরোধ হয় যা আপনার ব্রন কমাতে সাহায্য করবে।

★ কাচা হলুদ পেস্ট এটা মুখে লাগিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

★  এলোভেরা জেল এটাও লাগিয়ে রাখতে পারেন ব্রনের উপর যা আপনার ব্রন কমাতে সাহায্য করবে রাতে ঘুমানোর অাগে লাগিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পড়ুন সকালে উঠে মুখ ধু্য়ে ফেলুন।

 উপরের সবগুলো পদ্ধতি প্রাকৃতিক আপনি চাইলে ইউজ করতে পারেন যা আপবার ব্রন কমাতে সাহায্য করবে।

Comments

Popular posts from this blog

লাইফ পার্টনার বাছাই করার সঠিক উপায়