রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপায়
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপায়
পরিমিত ঘুম আমাদের সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
কারন ঘুম আমাদের শরীর ও মনকে সতেজ রাখে ও কাজ করার শক্তি যোগায়।
![]() |
| রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপায় |
কিন্তু আজকাল রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো যেন কঠিন হয়ে গেছে কেউ কেউ তো আবার রাত ১১ টা ১২ টা বা ৪ টার সময়ও ঘুমাতে যায়।
সকালে ঘুম থেকে উঠা ব্যক্তিদের তুলনায় রাতে দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া ব্যক্তির অকাল মৃত্যুর চান্স বেশি।
এর সমাধান কি কিভাবে আমরা আমাদের এই বাজে অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাব।
তার আগে জেনে নেওয়া যাক রাতে দেরি করে ঘুমালে আমরা যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হব।
তারপর আমরা দেখব কিভাবে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো যায়।
রাতে দেরি করে ঘুমালে যে সমস্যাগুলো হবে
===============================
★চোখের চারপাশে কালো দাগ পড়বে।
★যৌন সমস্যা দেখা দিবে।
★চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে।
★অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা হবে।
★হার্টের সমস্যা দেখা দিবে।
★সবসময় ক্লান্ত অনুভব করবেন আর ঘুম পাবে।
★চুল পড়ে যাওয়া ও পেকে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিবে।
★ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ে।
★সুগার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
★দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
★মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
★মানসিক রোগ৷ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
★স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
★মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।
★অলসতা বৃদ্ধি পায়।
★কাজ করার ইচ্ছা কমে যাওয়া।
আপনার যদি এই সমস্যার সম্মুখীন হতে মন চাই তাহলে রাত জাগতে পারেন আর যদি মনে করেন সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করবেন তাহলে আজকে থেকেই রাত না জেগে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন।
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপায়
======================
১ঃ ঘুমানোর ১ ঘন্টা পুর্বে আপনার ফোন বা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন। আমাদের শরীরে melatonin নামক একটা হরমোন আছে যা ঘুম আসতে সাহায্য করে কিন্তু এই ফোন বা ল্যাপটপ এর স্কিন থেকে আসা আলো আমাদের melatonin কমিয়ে দেয় যার ফলে ঘুম আসে না।
২ঃ হালকা ব্যায়াম বা হাটাহাটি করতে পারেন যা আপনার শরীরকে ক্লান্ত করে দিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুম আসতে সাহায্য করবে
৩ঃ বিকাল ৪ টার পর ক্যাফিন জাতীয় খাবার এডিয়ে চলুন যেমন চকলেট চা কফি এইগুলা খাওয়ার পর আপনার ব্রেইন অনেক বেশি একটিভ থাকে যার ফলে আপনার দেরিতে ঘুম আসে।
৪ঃ শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে ফেলুন। তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পুর্বে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিন। গরম পানি আপনার শরীর প্রথমে একটু গরম করলেও পরে আস্তে আস্তে তাপমাত্রা কমিয়ে দেয় কিন্তু রাতে ঠান্ডা পানি দিয়েও গোসল করতে পারেন কিন্তু সর্দি জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তাই গরম পানি ব্যবহার করুন।
৫ঃ ঘুমাতে যাওয়ার পুর্বে মেডিটেশন করতে পারেন যা আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে শরীর ও মনকে শান্ত করে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে সাহায্য করবে।
ঘুমানোর সঠিক সময় কখন?
====================
সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে রাত দিয়েছেন আরাম করার জন্য আর দিন দিয়েছেন কাজ করার জন্য কিন্তু আমরা এর উল্টো টা করি।
আপনি দিনে ঘুমিয়ে রাতের ঘুম কখনো পুরন করতে পারবেন না। কারন সারারাত ঘুমিয়ে যখন সকালে উঠবেন সবকিছুই আপনার কাছে ভালো লাগবে। ঘুমানোর সঠিক হয় রাত ৯-১১ এই সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া ভালো।
যদি বিশেষ কাজে হঠাৎ দেরি হয় সমস্যা নেই কিন্তু সেটা যেন নিয়মিত না হয়।
বয়স অনুসারে কতটুকু ঘুম প্রয়োজন?
================================
বয়স অনুসারে সবার ঘুমের চাহিদা ও সময় ভিন্ন ভিন্ন। তো চলুন দেখি
৩ মাসের কম বাচ্চার ১৪-১৭ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।
৪-১১ মাস ১২-১৫ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।
৩-৫ বছর— ১২ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।
৬-১০ বছর— ৯-১০ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।
১৪-১৭ বছর — ৮-৯ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।
১৮-২৫ বছর— ৭-৮ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।
২৬-৬৪ বছর — ৬-৭ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।
৬৫ বছরের উপরে যাদের বয়স তাদের ৪ ঘন্টা ঘুম হলেই যথেষ্ট।
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে না কি করবো?
============================
হয়তো আপনার সজাগ থেকে অভ্যাস হয়ে গেছে যার কারনে তাড়াতাড়ি ঘুম না আসাই স্বাভাবিক। ভয়ের কিছু নেই এক্ষেত্রে আপনি একটা কাজ করতে পারেন।
প্রতিদিন ঘুম না আসলেও শুয়ে থাকুন এভাবে একটানা ২১ দিন চেষ্টা করুন একসময় দেখবেন আপনিও রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন।

Comments
Post a Comment