মোবাইলের নেষা ছাড়ার উপায়

  মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

মোবাইল ছাড়া যেন আজকাল চলাই কঠিন সবকিছুর সাথেই দিন দিন মোবাইল জড়িয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া খেলাধুলা সবখানেই এই মোবাইল জায়গা দখল করে নিচ্ছে আর,আমরা হারিয়ে যাচ্ছি বাস্তবজীবন থেকে যেখানে আগে মাঠে  গিয়ে খেলতাম সেখানে আজ মোবাইল নিয়েই পাড় করে দেই ঘন্টার পর ঘন্টার কাটিয়ে দেই। এর সমাধান কি কিভাবে আমরা এই মোবাইলের নেষা থেকে মুক্তি পাব।



 আগে জেনে নেওয়া যাক কেন আমরা মোবাইলের নেষায় আসক্ত হয়ে যায়

 ---------------------------------------------

আমরা যখন মোবাইল ইউজ করি তখন আমাদের ব্রেইন একটা ডোপামিন রিলিজ কর আর এই ডোপামিন আমাদের মোবাইল চাপার দিকে  ধাবিত করে। 

আর মোবাইল আর ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো 

এমন ভাবে এসব মোবাইল আর ইন্টারনেট এমনভাবে পরিচালনা করে যে যখন আপনি একটা কাজের জন্য মোবাইল ধরবেন তখন আরেকটা কাজের সাথে জড়িয়ে যাবেন হয়তো ফেইচবুকে ডুকে  মেসেজ চেক করা শুরু করে দিবেন নয়তো অন্য কিছু করা শুরু করবেন আর এইভাবে আপনার সময় কখন কিভাবে চলে যাবে আপনি টেরও পাবেন না। 


1.Easy entertainment:  এটা যখন যেখানে খুশি নিয়ে চলা সম্ভব। এক হাতের মুঠোয় নিয়ে শুয়ে বসে দাঁড়িয়ে যেভাবে খুশি ইউজ করা যায় তাছাড়া বর্তমান হাই স্পিড (wifi)এর আশীর্বাদে এই ছোট মোবাইল দিয়ে সবরকম বিনোদন উপভোগ করা যায়। এটা ধরে রাখতেও  তেমন সমস্যা হয়না। এত কম খরচে এত কম কষ্টে এত বেশি বিনোদন পেলে আসক্ত হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। 


2.জরুরী না থাকা সত্বেও জরুরি মনে করাঃ-

-----------------------------------------------------

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোনটা নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করে দেই। যা আমাদের সকালবেলার প্রডাক্টিভিটি নষ্ট করে। facebook, whatsapp, twiter  এসব সোসাল মিডিয়া আমাদের মধ্যে একটা  fake urgency তৈরী করে অর্থাৎ এই মুহুর্তে আপনার ফেইচবুকে না ডুকলেও চলতেছে কিন্তু তাও আপনার কাছে মনে হবে কি না জানি মিস করে ফেললাম।

যেকোনো অভ্যাসের ৩ টা দিক থাকে 

1.trigger 2.routine 3.reward

মোবাইলের নোটিফিকেশন পেয়ে হাতে নেওয়া trigger এবং মোবাইল আনলক করে  facebook Whatsapp চেক করা হলো Routine. এবং এইগুলা থেকে পাওয়া আনন্দই হলো Reward.

তাই আমাদের অভ্যাসের এই চক্রটি বন্ধ করতে হবে।



অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক

----------------------------------------------------------

১ঃ আপনি নেষাগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। নরমাল সিগারেট খাওয়া একটা মানুষ যেমন সিগারেট খাওয়া ছাড়া থাকতে পারে না তেমনি একটা সময় আপনিও মোবাইল ছাড়া থাকতে পারবেন না। 


২ঃ আপনার মানসিক চাপ বেড়ে যাবে আপনি প্রায় সময় হতাশায় ভুগবেন।

৩ঃবাস্তব জীবনের খুশি আনন্দ সম্পর্কে ভুলে যাবেন তখন মনে হবে আপনার ফোনেই সব।

৪ঃ ক্রমাগত আপনার চোখের পাওয়ার কমতে থাকবে আপনি ঝাপসা দেখা শুরু করবেন।

৫ঃ চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভুলে যাবেন

৬ঃ আপনার মানসিক বিকাশ ব্যাহত হবে।

যেভাবে মুক্তি পাবেন এই ভয়ংকর নেষা থেকে

--------------------------------------------------------

★ একটা নির্দিষ্ট সময় করে ফোন ইউজ করেন।

★ কি জন্য কি দরকারের জন্য  মোবাইল  ইউজ করবেন সেটা আগে কনফার্ম করুন। 

যখন ঐ দরকার শেষ হয়ে যাবে সাথে সাথে ফোন কে দূরে রাখুন আপনার থেকে। 

ধরেন  আপনার কাওকে কল দেওয়া প্রয়োজন তো কলে কথা বলা শেষ হলে ফোনটি হাত থেকে সরিয়ে রাখুন এমন না যে ফোনে কথা শেষ তারপরব ফেইচবুকে ডুকে পরলাম

★ফোনের সকল নটিফিকেশন অফ করে রাখুন

★নিজের লক্ষ্যের পেছনে সময় দিন।

কথায় আছে অলস মস্তিষ্ক শয়তানের বাসা আপনি যদি সারাদিন কাজকর্ম ছাড়া বসে থাকেন তো বারবার আপনার মোবাইল   ঘাটাঘাটি করতে মন চাইবেই। তাই নিজের লক্ষ্যের পেছনে সময় দিন

৬ সকালবেলার  ঘুম থেকে উঠে আর রাতে ঘুমানো যাওয়ার পুর্বে ৩ ঘন্টা করে মোট এই ৬ ঘন্টা একদম মোবাইল ইউজ করা যাবে না। 

★  সপ্তাহে একদিন মোবাইল থেকেই  একদম দূরে থাকা। 


Comments

Popular posts from this blog

লাইফ পার্টনার বাছাই করার সঠিক উপায়